ইসলামিক

সিদ্দিক আবুবকর (রাঃ)

সিদ্দিক আবুবকর (রাঃ)

মহানবীর জীবনে এল এক মহাক্ষণ। এই মহাক্ষণেই তিনি স্বর্গ-মর্ত্য ঘুরে এলেন। এই মহাক্ষণটির নাম “মেরাজ”। যার অর্থ স্বর্গে আরোহণ। এই সম্পর্কে পবিত্র কোরআন বলে, “তিনি পবিত্রতম, যিনি একদা রাতে তাঁর সেবককে তাঁর নিদর্শন দেখাবার জন্যে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজেদুল হারাম হতে মাসজেদুল  আকসা পর্যন্ত, যার সীমাকে আমি সৌভাগ্য যুক্ত করেছি, যেন আমি তাকে কতিপয় নিদর্শন প্রদর্শন করি, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” ফজরের নামায শেষে মহানবী তাঁর এই মেরাজের কথা সকল সাহাবীর মধ্যে ঘোষণা করলেন। একথা শুনে কেউ বা হতবাক, কেউ বা বিস্মিত, কেউ বা দ্বিধান্বিত, কেউ বা চিন্তিত। সকলেই ছুটে গেলেন। আবুবকর (রাঃ)-এর নিকট। তাঁকে সব কথা বললেন। তিনি সমস্ত কথা শুনে এককথায় বললেন, সত্য। দ্বিধাহীন চিত্তে আবার বললেন, এটি সত্য, পূর্ণ বিশ্বাস-সহ ঘোষণা করলেন, এটি সত্য। সকলেই আবার অবাক, হতভম্ব, হতবাক। মহানবীর মিশন ইসলামকে পুরুষকুলের মধ্যে প্রথম আলিঙ্গণ করেছিলেন আবুবকর (রাঃ)। আবার আজ মেরাজের বুক ভরা বিশ্বাস নিয়ে প্রথম বিশ্বাসী সেই আবুবকর (রাঃ)। মহানবীর সাথে সাক্ষাৎ করে শুধু একবার জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি ঐ কথা বলেছেন। যখন তিনি বললেন, হ্যা, তখন আবুবকর (রাঃ) সঙ্গে সঙ্গে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর রাসূল যা বলেন, সবই সত্য। তখন উত্তরে মহানবী বলেন, তিনি সিদ্দিক (সত্যবাদী বিশ্বাসী)। এইদিন হতে আবুবকর (রাঃ) জগতের বুকে সিদ্দিক নামে অভিহিত হলেন। এখন আমরা লক্ষ্য করছি, মহানবীর মহাজীবনের এমন কোন মহাক্ষণ নেই, মহাকাজ নেই, যার প্রথম বহিঃপ্রকাশ আবুবকর (রাঃ)-এ হলো না, এ কত বড় সৌভাগ্য, মহান আল্লাহর বহিঃপ্রকাশ তাঁর জীবন ছায়া আবুবকর (রাঃ)-এ। আবুবকর (রাঃ) তাঁর প্রাণকে পূর্ণ করে ফেলেছিলেন মহানবীকে সদাই সম্মুখে রেখে। তিনি জগতের সমস্ত কিছুকেই পরিত্যাগ করতে পেরেছিলেন একমাত্র মহানবীর জন্যে । 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button